জামাল উদ্দিন, ঢাকা মশক নিবারণীয় দপ্তরের ক্যাশিয়ার পদে চাকুরী নেন ২০১০ সালে। তৎকালীন সরকার আওয়ামিলীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের ছত্রছায়ায় ভাগিয়ে নিয়েছে এই সরকারি চাকুরী।
জামাল উদ্দিন মশক নিবারণীয় দপ্তরের কীটনাশক বিক্রি, প্রমোশন বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্য এবং কর্মচারীদের চাকুরিচ্যুত করার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত।
ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর ঢাকাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। ছোট হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই দপ্তরের মশক কর্মীরা মশক নিধনে কর্মরত। প্রায় ২৫০ এর অধিক কর্মচারী রয়েছে এই দপ্তরে।

সংগৃহীত ছবি
উক্ত দপ্তরের ক্যাশিয়ার জামাল উদ্দিন এর নামে রয়েছে একাধিক মামলা এবং অসংখ্য অভিযোগ।
মশক নিবারণী দপ্তর মশক কীটনাশক ছিটায় না। ছিটানোর কাজে মশক কর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কাজ করে। জামাল উদ্দিন মশক কর্মীদের মাধ্যমে কীটনাশক বেচা-কেনায় জড়িত বলে মশক কর্মী মিজান আহমেদ অভিযোগ করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশক কর্মী মো: মহসিন বলেছেন, জামাল উদ্দিন প্রমোশনের নামে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে ২০১৮ সালে। মহসিনকে প্রমোশন দিবে বলে টাকা নিয়েছে জামাল উদ্দিন, কিন্তু তাকে প্রমোশন দেয়া হয়নি৷
মশক কর্মী শান্তা ইসলাম বলেছেন, জামাল উদ্দিন এর অপকর্ম নিয়ে শান্তা ইসলাম অভিযোগ তুললে জামাল উদ্দিন শান্তা ইসলামকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে দেন।
আরেক চাকুরিচ্যুত আবুল হোসেন বলেন, জামাল উদ্দিন পুলিশ ভেরিফাই এর জন্য টাকা চেয়েছে। টাকা দেইনি বলে চাকুরী করতে দেয়নি।
শেষমেশ ২০২৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয় মশক নিবারণী দপ্তরে। জামাল উদ্দিন তার পালিত কর্মী হামিদুল নামে একজন মশক কর্মীর মাধ্যমে বিভিন্নজন থেকে চাকুরী দিবে বলে টাকা নিয়েছে দপ্তর গুঞ্জন রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এরকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে জামাল উদ্দিন এর নামে। থানায় এবং আদালতে মামলাও রয়েছে তার নামে। বিএনপি কিংবা জামাত ট্যাগ দিয়ে কর্মচারীদের চাকুরিচ্যুত করা ও বদলীসহ বিভিন্ন রকমের সাজা দিতো এই জামাল উদ্দিন।
এতো অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্বেও জামাল উদ্দিনকে প্রশাসন কিছু করতে পারছেননা বলে জানিয়েছে মশক নিবারণীয় দপ্তরের একজন কর্মচারী। তিনি আরো বলেন, জামাল উদ্দিন বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের যুগ্ন সচিব, উপ-সচিবদের ম্যানেজ করে চলতেন। যুগ্ন সচিব সরোজ কুমার নাথসহ অনেককে দিয়ে এসব অপকর্ম করতো জামাল উদ্দিন। এছাড়াও আওয়ামিলীগের দলীয় পরিচয় বহণ করে মন্ত্রণালয়ে।
এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশনে জামাল উদ্দিনের নামে প্রতিবেদন করা হলেও তৎকালীন প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেননি। জামাল উদ্দিন বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন৷ এবং সেটিও নাকি অবৈধভাবে দপ্তরের কর্মচারী জানিয়েছেন৷
এসব সম্পর্কে জানতে জামাল উদ্দিনের কাছে জানতে গেলে কোনো উত্তর দেননি তিনি।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, জামাল উদ্দিনের দাপট ও দুর্নীতি ছাড়িয়ে গেছে অনেককেই। নিরব দুর্নীতির কারিগর এই জামাল উদ্দিন। তাদের আকুতি, তারা যেন সুষ্ঠ বিচার পায় এবং তাদের চাকরি ও টাকা যেন ফেরত পায়।
